ক্রিসমাস বা বড়দিন কেবল যিশু খ্রিস্টের জন্মতিথি নয়, বরং এটি মানব ইতিহাসের দীর্ঘ বিবর্তন, মিথ ও সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণের এক অনন্য ফসল। এই প্রবন্ধে রোমানদের স্যাটার্নালিয়া ও নর্ডিকদের ইউল উৎসবের প্রভাব থেকে শুরু করে আধুনিক সান্তা ক্লজের বাণিজ্যিক বিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। চার্লস ডিকেন্সের ভিক্টোরিয়ান নৈতিকতা, উপহার অর্থনীতির সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব, এবং উৎসবের মনস্তাত্ত্বিক ও পরিবেশগত প্রভাবগুলো এখানে গভীরভাবে আলোচিত। সমাজবিজ্ঞান ও নৃতত্ত্বের আলোকে দেখানো হয়েছে, কীভাবে ধর্ম, লোককথা এবং আধুনিক ভোগবাদ মিলে ক্রিসমাসকে একটি বৈশ্বিক সামাজিক প্রপঞ্চে পরিণত করেছে। এটি নিছক উৎসব নয়, বরং মানুষের সামাজিক সংহতি ও আনন্দের এক তাত্ত্বিক অনুসন্ধান।
আধুনিক বিজ্ঞান, সমাজ ও নীতিনির্ধারণের জগতে ‘প্রমাণ-ভিত্তিক সত্য’ আজকের মানদণ্ড হলেও, সত্য বলতে কেবল যা দেখা যায়, মাপা যায় – সেটাই কি যথেষ্ট? দৃষ্টবাদ (Positivism) নামের এক সাহসী কিন্তু বিতর্কিত দর্শন বলেছিল – হ্যাঁ, সেটাই যথেষ্ট, বাকিটুকু মিথ বা ছলনা। কিন্তু ইতিহাস, দর্শন আর মানুষের আবেগের জগতে ঢুকে দেখলে বোঝা যায় – এই গল্পটা তার চেয়েও অনেক গভীর, অনেক জটিল।
পরিবার কি শুধুই মায়ার বাঁধন, নাকি টিকে থাকার স্বার্থপর জিন ও অর্থনীতির হিসাব-নিকাশ? এই দীর্ঘ প্রবন্ধে নৃবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের লেন্স দিয়ে পরিবারের ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে। এখানে উঠে এসেছে কীভাবে হাজার বছরের বিবর্তনে পরিবার প্রেম, রাজনীতি ও ক্ষমতার এক জটিল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। লেখায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ধর্ম ও পরিবারের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক। ধর্ম পরিবারকে ‘পবিত্রতা’ ও স্থায়িত্ব দিলেও, নারীবাদী ও সেক্যুলার তাত্ত্বিকরা দেখিয়েছেন কীভাবে ধর্ম শিশুদের মনে অপরাধবোধ জন্ম দেয় এবং পিতৃতান্ত্রিক শোষণকে টিকিয়ে রাখে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে পরিবারের এই ভাঙাগড়া এবং একটি স্বতন্ত্র ‘পরিবার বিদ্যা’ বা ‘ফ্যামিলি স্টাডিজ’ ডিসিপ্লিনের অপরিহার্যতা নিয়েই এই গভীর অনুসন্ধান।
জানুন মহাভারতের যে কথাগুলো জাতিবাদের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে। জাতিভেদের মূলে কুঠারাঘাত করতে পারে এই বক্তব্যগুলি।
সমাজবিজ্ঞানী স্ট্যানলি কোহেন আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে মিডিয়া ও রাষ্ট্র সাধারণ ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে সমাজে ‘মোরাল প্যানিক’ বা নৈতিক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাঁর কালজয়ী তত্ত্ব দেখায়, কীভাবে ‘মোরাল এন্টারপ্রেনার’ বা নৈতিক উদ্যোক্তারা নির্দিষ্ট কোনো ‘সাব-কালচার’ বা উপ-সংস্কৃতিকে বা কোন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে ‘ফোক ডেভিল’ বা লোক-দানব হিসেবে চিহ্নিত করে ‘মাস-হিস্টিরিয়া’ বা গণ-হিস্টিরিয়া তৈরি করে। ষাটের দশকের মডস ও রকার্সদের সংঘাত থেকে উঠে আসা এই তত্ত্ব আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ইতিহাসের পাতায় নজর দিলেই এই আতঙ্কের প্রমাণ মেলে – হোক তা মধ্যযুগের কুখ্যাত ডাইনি শিকার, সত্তরের দশকে ব্রিটেনে ‘মাগিং’-এর জন্য কৃষ্ণাঙ্গদের দায়ী করা, আশির দশকের ভিত্তিহীন ‘স্যাটানিক রিচুয়াল অ্যাবিউজ’, কিংবা এইডস আতঙ্কে সমকামীদের একঘরে করে দেওয়া। এই দীর্ঘ প্রবন্ধে কোহেনের জীবনের আখ্যান ও তত্ত্বের আলোকে সমাজের এই লুকানো ভয়, বিদ্বেষ ও অস্বীকারের মনস্তত্ত্বকে ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে, যা আমাদের চারপাশের জগতকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে শেখাবে।
